সুন্দরবন রচনা
সুন্দরবন
ভূমিকা: সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো ম্যানগ্রোভ বন। ‘সুন্দরী’ নামের এক ধরনের গাছের প্রাধান্য থাকায় এ বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
সুন্দরবনের আয়তন ও অবস্থান: সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার, যার মধ্যে বাংলাদেশের অংশ ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার। বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত। বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলা জুড়ে এ বন বিস্তৃত।
সুন্দরবনের উদ্ভিদ: সুন্দরবনে রয়েছে বৃক্ষ, লতাগুল্ম, ঘাস, পরগাছাসহ ৩৩৪ প্রজাতির উদ্ভিদ। সুন্দরবনের সুন্দরী, গেওয়া, গরান, কেওড়া, বাইন, পশুর, কাঁকড়া, ধুন্দুল, ওড়াঁ ইত্যাদি বৃক্ষ খুব মূল্যবান। এছাড়া এ বনের সবখানেই গোলপাতা জন্মে।
সুন্দরবনের প্রাণী: সুন্দরবনে প্রায় ৫০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৫০ প্রজাতির সরীসৃপ, ৮ প্রজাতির উভচর এবং ৩২০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার পৃথিবী বিখ্যাত। এছাড়াও রয়েছে বানর, শিয়াল, চিত্রা ও মায়া হরিণ, বনবিড়াল, শজারু ইত্যাদি। পাখির মধ্যে বক, সারস, হাড়গিলা, কাদাখোঁচা, গাংচিল, জলকবুতর আরও নানা প্রজাতির পাখি নদীনালা ও গাছপালায় বাস করে। সরীসৃপের মধ্যে রয়েছে কুমির, সাপ, টিকটিকি ইত্যাদি। সুন্দরবনের পানিতে প্রায় ২২২ প্রজাতির মাছ রয়েছে।
সুন্দরবনের গুরুত্ব: এই বিশাল বনভূমি সমুদ্র উপকূলবর্তী সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে। এছাড়া এর অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। স্থানীয় লোকজন বন থেকে পাতা, মধু, কাঠ, ফল, গাছের বাকল ইত্যাদি সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে সরবরাহ করে। উপসংহার: বাংলাদেশ তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সুন্দরবনের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। তাই সুন্দরবন ও এর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।
উপসংহার: বাংলাদেশ তথা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সুন্দরবনের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। তাই সুন্দরবন ও এর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সবাইকে সচেষ্ট হতে হবে।