বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ রচনা

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ

ভূমিকা: বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করতে ১৯৭১ সালে এ দেশের ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে বীরত্বের বিচারে যারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন তাঁদের দেওয়া হয়েছে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি। ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ বীরশ্রেষ্ঠদের একজন।

জন্ম ও বংশ পরিচয়: মুন্সী আবদুর রউফ ১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি থানার সালামতপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা মুন্সি মেহেদি হাসান এবং মাতা মকিদুন্নেসার একমাত্র পুত্র।

শিক্ষা ও কর্মজীবন: পারিবারিক সমস্যার কারণে বেশি দূর লেখাপড়া করতে পারেননি আবদুর রউফ। তিনি প্রথমে ইপিআর বাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে তিনি মেশিন চালক হিসাবে সুখ্যাতি অর্জন করেন।

মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান: ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল। মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি নৌসেনাদের উপর আক্রমণ করার জন্য মহালছড়ির কাছে বুড়িঘাট এলাকার চিংড়ি খালের দুইপাশে অবস্থান নেন। পাকিস্তানি বাহিনী সাতটি স্পিডবোট ও ২টি লঞ্চ নিয়ে এগিয়ে আসে। তাদের হাতে ছিল স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা তাতে ভীত হননি। আবদুর রউফ হালকা একটা মেশিনগান হাতে তুলে নিয়ে গুলি ছুড়ে শত্রুদের রুখে দিতে থাকেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত আক্রমণে সাতটি স্পিডবোটই ডুবে যায়। ৰাকি লঞ্চ দুটো থেকে গোলাবর্ষণ আর গুলি ছুড়তে ছুড়তে তারা পিছু হটতে থাকে। এরকম একটি মুহূর্তে হঠাৎ একটি গোলা এসে পড়ে তাঁর উপর, তিনি শহিদ হন।

উপসংহার: ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ বীরত্ব ও সাহসিকতায় বাংলার গর্বিত সন্তান। নিজের জীবন উৎসর্গ করে তিনি দেশমাতৃকার সেবা করে গেছেন।

দিপ্ত পাল

দিপ্ত পাল

আমি দিপ্ত কুমার পাল। কিডস স্কুল বাংলাদেশ ইউটিউব চ্যানেলের প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক। ইংরেজি এবং গণিত বিষয়ের ভিডিও লেসনগুলো আমার তৈরি।

সকল ক্লাস