স্বাধীনতা দিবস রচনা
স্বাধীনতা দিবস
সূচনা: প্রত্যেক জাতির এমন কতকগুলো গৌরবোজ্জ্বল জাতীয় দিবস থাকে। সেগুলোকে জাতি অন্যন্ত মর্যাদার সাথে পালন করে থাকে। বাঙালি জাতির সেরকম একটি দিবস স্বাধীনতা দিবস।
ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ পাকিস্তান ও ভারত নামে দুভাগে বিভক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে। পাকিস্তান সৃষ্টি বাঙালির জন্যে কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে মায়ের ভাষা অর্জন তারই প্রমাণ। এরপর ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৬৭ সালের স্বাধিকার আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণআন্দোলন, ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন এসবই বাঙালির আন্দোলনের বিভিন্ন স্তর।
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। পাকিস্তান সরকার ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর সেনাবাহিনীকে লেলিয়ে দেয় এবং বঙ্গবন্দু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পূর্বেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ত্রিশ লাখ শহিদের রক্ত দুই লাখ ছিয়াত্তর হাজার মা-বোনের সম্ভ্রমহানীর বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের স্বাধীনতা।
স্বাধীনতা দিবস: স্বাধীনতার ঘোষণা হওয়ায় ২৬শে মার্চকে অমরা স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালন করি। ২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা আসেনি। স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম শুরু হয়েছিল মাত্র। তারপর যখন দেশ সম্পূর্ণরূপে হানাদর মুক্ত হলো তখন থেকে প্রতি বছরই এ দিনটাকে যথাযোগ্য মর্যাদার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়।
উপসংহার: প্রত্যেক স্বাধীন জাতিরই আছে স্বাধীনতা দিবস। আমারও স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে এনেছি। এ স্বাধীনতা আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার।