বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ রচনা
মুক্তিযুদ্ধ
ভূমিকা: পরাধীনতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এ দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষ বারবার অসংখ্য আন্দোলন, সংগ্রাম ও যুদ্ধ করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি: ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি দেশের জন্ম হয়। পাকিস্তানের ছিল দুটি অংশ- পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান। নামে স্বাধীন হলেও পূর্ব পাকিস্তানের অধিবাসীরা সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে। এ কারণেই ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভকরলেও তাদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। ফলে শাসকগোষ্ঠী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করে। এই গণহত্যার বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ মানুষ ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
মুক্তিযুদ্ধ: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে এ সরকার শপথ গ্রহণ করে। দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে এ দেশের মানুষ। এরই মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে আরও একটি নতুন স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়, যার নাম বাংলাদেশ।
উপসংহার: মুক্তিযুদ্ধ এ দেশের ইতিহাসে একই সঙ্গে সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমেই আমরা স্বাধীন হয়েছি। তাই জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে এর চেতনা সমুন্নত রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।